গরমে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ ৫ জাদুকরী উপায়

গ্রীষ্মকালীন সময়ে এসি ও ফ্যানের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ বিল সাধারণত বেড়ে যায়। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় অনুসরণ করলে বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে মাসিক বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন—এসি সঠিকভাবে ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনে যন্ত্রপাতি চালু না রাখা এবং এলইডি বাতি ব্যবহার করা ইত্যাদি।

গ্রীষ্মকালে ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার (এসি) প্রায় সারাক্ষণ চালু থাকায় বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে মাস শেষে বাড়তি বিলের চাপ পড়ে। তবে সচেতনভাবে কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

এসি ব্যবহারে সচেতনতা

এসি ব্যবহার করলে তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির পরিবর্তে ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করা উচিত। মাত্র ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ালেই প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। এসি চালানোর সময় সঙ্গে ফ্যান ব্যবহার করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, ফলে এসির ওপর চাপ কম পড়ে। সিলিং ফ্যান কম গতিতে চালালে ঠান্ডা বাতাস পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রতি ১৫ দিন অন্তর এসির এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা জরুরি। ফিল্টার ময়লা থাকলে মোটরের ওপর চাপ বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা রাখুন

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখতে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। দিনের বেলা বিশেষ করে দুপুরের সময় রোদ প্রবেশ করে এমন জানালায় পর্দা টেনে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা কম থাকে। এক্ষেত্রে গাঢ় রঙের পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভারী পর্দা ব্যবহার করলে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না। সন্ধ্যার পর জানালা খুলে দিলে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করে, ফলে রাতে এসি ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। যারা ভবনের উপরের তলায় থাকেন, তারা ছাদে সাদা প্রতিফলক রং ব্যবহার করলে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা কম রাখতে পারেন। আবার যদি আলো প্রয়োজন হয়, তাহলে পর্দা খোলা রাখতে পারেন। এতে বাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। 

অপ্রয়োজনীয়  ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখুন

অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইস রয়েছে, যা রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে। টিভি, ল্যাপটপ চার্জার এবং মাইক্রোওয়েভের মতো অ্যাপ্লায়েন্সগুলো প্রায়শই স্ট্যান্ডবাই মোডেও বিদ্যুৎ খরচ করে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়াতে এসব ডিভাইস ব্যবহার শেষ হতেই ডিভাইসগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন।

ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা

ফ্রিজের অবস্থান এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এটিও বিদ্যুৎ খরচে প্রভাব ফেলে। ফ্রিজ দেয়াল থেকে অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে রাখা উচিত, যেন তাপ সহজে বের হতে পারে। শীতকালীন মোড থেকে গ্রীষ্মকালীন মোডে সেটিং পরিবর্তন করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি বারবার ফ্রিজ খোলা এড়িয়ে চলা উচিত। ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বারবার ফ্রিজ খোলা যাবে না।
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে না, কারণ এতে ফ্রিজকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়।

এলইডি বাতির ব্যবহার

প্রচলিত ফিলামেন্ট বাল্ব ও টিউবলাইট বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। এর পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করলে কম বিদ্যুতে বেশি আলো পাওয়া যায়। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *