মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দৃষ্টিনন্দন ছবি প্রকাশ করল নাসা

চাঁদকে কেন্দ্র করে চলমান আর্টেমিস-২ মিশনে মহাকাশযান ওরিয়নের ভেতর থেকে তোলা পৃথিবীর প্রথম ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এই ছবিতে মহাকাশ থেকে মেঘে আচ্ছাদিত পৃথিবীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা গেছে। 

নাসা জানায়, মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে পৃথিবীর এই ছবি ধারণ করেন। ছবিতে দেখা যায়, মেঘের বিস্তৃত স্তরে ঢাকা পৃথিবী যেন মহাকাশযানের পেছন থেকে উদিত হচ্ছে। আরেকটি ছবিতে পুরো পৃথিবী, মহাসাগর এবং সবুজ আভায় অরোরা দৃশ্যমান হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চার নভোচারীর দলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ মাইল (১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছিল এবং দ্রুত চাঁদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা।

তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডিয়ান নভোচারী এই মিশনে অংশ নিয়েছেন। তারা ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এ অভিযানে তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মূল ইঞ্জিন চালু করে মহাকাশযানটিকে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয়। 

মিশনের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কখ বলেন, মহকাশ থেকে পৃথিবীর দৃশ্য প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবে তা ‘অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকর’। তিনি বলেন, নিজ গ্রহকে এত উজ্জ্বলভাবে দেখা এবং একই সঙ্গে চাঁদের আলোয় তার সৌন্দর্য উপভোগ করা- এ অভিজ্ঞতার জন্য কোনো প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়।

মিশনের ষষ্ঠ দিনে নভোচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবেন, যা হবে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার মাইল দূরে। এরপর তারা চাঁদের দূরবর্তী পাশ ঘুরে আবার পৃথিবীর পথে ফিরবেন। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ প্রথমবারের মতো এত দূর মহাকাশে ভ্রমন করছেন।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশে ঘোরার সময় নভোচারীরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ‘ফ্লাইবাই’ প্রক্রিয়ায় মহাকাশযানটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে দিক পরিবর্তন করে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ডিয়েগোর উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে মহাকাশযানটির অবতরণ হওয়ার কথা রয়েছে।

নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখা মানুষের ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, এখান থেকে পৃথিবীকে একটাই সত্তা মনে হয়- আমরা সবাই একই মানবজাতির অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *