প্রকৃতি যেন তার স্বাভাবিক নিয়ম বদলে ফেলেছে। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে যখন মানুষের কষ্টে থাকার কথা, ঠিক সেই চৈত্র মাসেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা নেমে এসেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে নজিরবিহীন ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’।
আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালেও পঞ্চগড়ের আকাশে মাঘের শীতের মতো ঘন কুয়াশার দেখা মিলেছে।
আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণে অবাক জেলার প্রবীণ বাসিন্দারাও। তারা বলছেন, চৈত্র মাসের ২০ তারিখে এমন ঘন কুয়াশা তারা আগে কখনও দেখেননি। যেখানে এই সময়ে কড়া রোদে শরীর পুড়ে যাওয়ার কথা এবং ফ্যান চালিয়েও স্বস্তি মেলার কথা নয়, সেখানে শীতের কাপড়ে বের হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। মাঠ-ঘাট ও গাছপালা কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় দিনের বেলাতেও রাস্তাঘাটে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও বেলা ১১টার আগে সূর্যের দেখা মেলেনি। আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনে ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো নানা রোগবালাই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।
জিতেন্দ্রনাথ রায় আরও বলেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেছে। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তা দ্রুত ঘনীভূত হওয়ার কারণে এই ঘন কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে মূলত ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা যেতে পারে।