ম্যাচ হেরেও ‘গর্বিত’ কাবরেরা

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সিঙ্গাপুরকে হারানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়েও নজর কেড়েছেন ফুটবলাররা। যদিও সেই লড়াই পূর্ণতা পায়নি। তবুও নিজের শিষ্যদের পারফরম্যান্সে গর্বিত কাবরেরা।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। হারের পর সংবাদ সম্মেলনে কাবরেরা বলেন, ‘আজকের ফলাফল মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বে এটাই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, দলটি আজ জয় অথবা অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল।’

হারের পরও খেলোয়াড়দের কেন বাহবা দিচ্ছেন, তার ব্যাখ্যায় কাবরেরা বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা কীভাবে হারছি, সেটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি দলের জন্য অনেক গর্বিত। বল দখল থেকে শুরু করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ—পুরো ম্যাচেই আমাদের আধিপত্য ছিল। এই পারফরম্যান্সের জন্য আমি দলকে অভিনন্দন জানাই।’

বাছাইপর্বের সামগ্রিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচের কোনোটিতেই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের চেয়ে খারাপ খেলেনি। তাঁর মতে, সিঙ্গাপুর মূল পর্বে যাওয়ার যোগ্যতা রাখলেও আজকের ম্যাচে বাংলাদেশই ছিল শ্রেষ্ঠতর দল।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাথে কাবরেরার বর্তমান চুক্তির আজই ছিল শেষ ম্যাচ। নিজের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কথা বলেছেন স্প্যানিশ এই কোচ।

কাবরেরা বলেন, ‘কে দায়িত্বে থাকল সেটা বড় কথা নয়, তবে এই প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যাওয়া উচিত। দলের উন্নতি এখন দৃশ্যমান। অভাব ছিল কেবল কিছু ইতিবাচক ফলাফলের। ফেডারেশনের উচিত এই ফুটবলারদের ওপর আস্থা রাখা এবং অনূর্ধ্ব-২০ সাফ থেকে আসা তরুণদের সুযোগ দিয়ে দলকে নতুন করে সাজানো।’

অনেক ম্যাচ জিততে না পারলেও কাবরেরা মনে করেন, বাংলাদেশের ফুটবলের গুণগত মান বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা এখন অভিজ্ঞ এবং পেশাদার হয়ে উঠছে। তারা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে জানে। তবে সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলো একটি সুযোগ পেলেই গোল করে ফেলে, এই জায়গাতেই আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’

কোচ কাবরেরার বিশ্বাস, এই উন্নতির ধারা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে আরও ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে যেতে দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *