জরিমানায়ও থামছে না ভূঞাপুরের ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেট

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অব্যাহত রয়েছে ফসলি জমি কাটার মহোৎসব। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানা যেন এই অবৈধ বাণিজ্যের কাছে একপ্রকার ‘রুটিন প্রক্রিয়ায়’ পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৫ দিনেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু এত জরিমানার পরও থামছে না মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য ; বরং দিন দিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে চলতি বছরের ১৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার মাটিকাটা এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে রঞ্জুকে ৫০ হাজার, ফলদা ইউনিয়নের মৃত কিতাব আলীর ছেলে টগরকে ৫০ হাজার এবং নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকার শাহাবুদ্দিনের ছেলে আতোয়ারকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ট্রাকে মাটি বহন ও এক্সকাভেটরের মাধ্যমে কৃষিজমি কাটার দায়ে পৃথক ধারায় আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ বিকেলে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ব্যক্তিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদের মধ্যে রুহুলি গ্রামের মো. নওশের আলীর ছেলে আব্দুল কদ্দুসকে ৫ হাজার ও মাইজবাড়ি গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে মো. রহিমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে ফসলি জমি কেটে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাতভর ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামের সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে, বাড়ছে শব্দ দূষণ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, যারা ধীরে ধীরে তাদের ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আনলে কোনোভাবেই বন্ধ হবে না মাটি কাটা।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, আইন বিধি অনুযায়ী অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *