জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আমিনুল ইসলামকে (৩১) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আমিনুল ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ারচর গ্রামের আমজল মিয়ার ছেলে।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হক জানান, ২০১৮ সালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ারচর গ্রামের আমজল মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার টালিয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে সুজানা আক্তারের (২৩) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে সুজানাকে নির্যাতন ও মারধর করত তার স্বামী। ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল ২০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রী সুজানা আক্তারকে ব্যাপক মারধর ও পেটে লাথি দিয়ে গুরুতর আহত করে তার স্বামী। আহত অবস্থায় সুজানাকে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী শেরপুর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় সুজানা আক্তারের।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল নিহত সুজনা আক্তারের বাবা সুরুজ মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে সুজানার স্বামী আমিনুল ইসলাম, শ্বশুর আমজল (৬০) ও শাশুড়ি খইফুল বেগম (৫৫) কে আসামি করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে শুধু নিহতের স্বামী আমিনুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। ওই মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ প্রদান করে আদালত। জরিমানার অর্থ নিহতের বাবা ও মাকে প্রদানের আদেশও দেওয়া হয়।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।