দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম তরতবাড়িতে উৎপাদিত ‘সানশাইন’ জাতের আলু এখন আর কেবল স্থানীয় হাটে সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত মান ও আধুনিক চাষপদ্ধতির কল্যাণে এই আলু এখন পাড়ি দিচ্ছে মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে। উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণ করে উৎপাদিত এই আলু বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তরতবাড়ি গ্রামে এখন উৎসবমুখর ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততা কেবল ক্ষেতে নয়, বরং প্যাকিং সেন্টারে। ‘দি এগ্রোনমি ইনিশিয়েটিভ এগ্রো’র তত্ত্বাবধানে রপ্তানির জন্য আলু অত্যন্ত যত্নসহকারে বাছাই ও গ্রেডিং করা হচ্ছে। বিদেশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ কেজির ব্যাগ এবং সাড়ে ৩ কেজির বিশেষ কার্টনে এই আলু প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে রাখা হচ্ছে কঠোর নজরদারি।
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত প্রশিক্ষণ। তরতবাড়ি পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) ও জিএপি আলু ও কৃষক সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের ১০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিষমুক্ত ও মানসম্মত আলু উৎপাদনে দক্ষ হয়ে উঠেছেন।
রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কেবল কৃষকরাই নন, যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় নারীরাও। প্যাকিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অংশ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, যা অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে।
উদ্যোক্তা সালমা রহমান জানান, দেশের বাজারে আলুর দাম কম থাকলে কৃষকরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়েন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, উত্তম কৃষি চর্চা মেনে আমরা ভালো মানের আলু উৎপাদন করছি। বিদেশে আলু যাওয়ায় আমরা আগের চেয়ে ভালো দামের আশা করছি।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত বীরগঞ্জ থেকে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও আলু পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরাসরি বাজারসংযোগের মাধ্যমেই বীরগঞ্জের আলু আজ আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।