মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার স্থল সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার আবহ তৈরির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন বর্তমানে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। খবর আলজাজিরার। 

এই নতুন সেনাদল মোতায়েন করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্পগুলো বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত এই বিশাল সেনাদলে প্রধানত পদাতিক বাহিনী এবং শক্তিশালী সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে জরুরিভিত্তিতে এই অঞ্চলে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে আরও ১০ হাজার সৈন্য যোগ হলে গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। 

পেন্টাগনের পরিকল্পনাকারীরা জানিয়েছেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের সক্ষমতা বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে বলছে, তেহরানের সঙ্গে ১৫-দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে একের পর এক সেনাদল পাঠিয়ে সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ বা সরাসরি স্থলযুদ্ধের জন্য সৈন্য পাঠানো অত্যন্ত বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় একটি ইস্যু। সাধারণ আমেরিকানরা যখন যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন পেন্টাগন ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের এই ফ্রন্টে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর মোট সংখ্যা এবং তাদের সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *