স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ

বাউফলে সামনে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা প্রশাসনের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে সংঘর্ষে  জড়িয়ে পড়েন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশের সামনেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পৌর শহরের পাবলিক মাঠে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুচকাওয়াজ শুরুর আগেই অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত সামনের সারির ডানপাশের আসনে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসাহাক মিয়া, সেক্রেটারি খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী বসেন। পরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বীরমুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদার ৪০-৫০ জন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে  প্রবেশ করেন। এরপরে তিনি ও তার স্ত্রী সালমা আলম সামনের সারির বামপাশে বসেন।

কিন্তু সামনের সারিতে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী বসতে পারেননি। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ সামনের সারিতে বসা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলামকে চেয়ার ছাড়তে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু হস্তক্ষেপ করেন। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রদলনেতা ফাহাদ জামায়াতকর্মী অহিদুজ্জামানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দ্বিতীয় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে।  পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল আলম তালুকদার সকালে  স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনিসহ আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা পাবলিক মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি জামায়াতের লোকজন সামনের সারির সব চেয়ার দখল করে বসে আছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বসার জন্য জামায়াতের কিছু নেতাকে চেয়ার ছাড়ার অনুরোধ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায় তাদের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।

এ বিষয়ে  উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর  আমির ইসাহাক মিয়া বলেন, কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের অতিথিদের বসার জন্য নির্ধারিত যে চেয়ার ছিল তার একপাশে আমরা তিনজন বসেছি। ওপর পাশে বিএনপির জন্য নির্ধারিত চেয়ার রাখা হয়।  বিএনপির নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে পরিকল্পিতভাবে আামাদের লোকজনের ওপর হামলা করে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরে তা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, এটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল। কিছু সময় মাঠে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে সমস্যার সমাধান করা হয়। এতে মাঠের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটেনি। যথাযথভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।

ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

এদিকে, আজ সকালে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জমিয়তে উলামার সভাপতি আবদুল্লাহ হক কাউসারী ‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কোনো অবদান নেই’ এমন বক্তব্য দেওয়ায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রচণ্ড হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক জুয়েল রানা। প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *