পাবনার বেড়া উপজেলায় শম্ভুপুর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শম্ভুপুর ঘাটে পণ্যবাহী যান থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি এবং এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে হাতিগাড়া ও শম্ভুপুর গ্রামের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ বেলা ১১টার দিকে চাঁদাবাজির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে উভয় গ্রামের অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শম্ভুপুর বাজারের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটের দখল নিয়ে সাবেক কমিশনারদের অনুসারীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাতিগাড়া গ্রামের পক্ষে সাবেক কমিশনার সালাউদ্দিন ইকবাল, জাহান খাঁ ও আলমের অনুসারীরা লড়াইয়ে অংশ নেয়। অন্যদিকে শম্ভুপুর গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক কমিশনার জাহিদ ও জাহাঙ্গীর। মূলত ঘাটের দখল এবং মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতেই এই সংঘাত।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেড়া মডেল থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় দুপুর নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। শান্তি রক্ষায় এলাকায় পুলিশি টহলের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নজরদারি চালাচ্ছে।’
ওসি নিতাই চন্দ্র সরকার আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।