ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘ভীরু’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ন্ত্রণে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার দাবি গ্রাহ্য না করায় ন্যাটো মিত্র দেশগুলোকে ‘ভীরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটোভূক্ত ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেছেন, তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষিত করতে ওয়াশিংটনের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক পোস্টে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র (ইউএসএ) ছাড়া ন্যাটো একটি কাগুজে বাঘ!’

ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামাতে তারা লড়াইয়ে যোগ দিতে চায়নি। এখন যখন সেই লড়াই সামরিকভাবে জয় করা হয়েছে এবং তাদের জন্য ঝুঁকিও খুব কমে গেছে, তখন তারা চড়া তেলের দাম নিয়ে অভিযোগ করছে যা তারা দিতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ তারা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সাহায্য করতে চায় না; এটি একটি সাধারণ সামরিক কৌশল যা তেলের চড়া দামের একমাত্র কারণ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘তাদের জন্য এটি করা কত সহজ এবং এতে ঝুঁকিও কত কম! ভীরুর দল, আমরা এটি মনে রাখব!’

পশ্চিমা সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের সমালোচক ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ন্যাটোর বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জাপানসহ বিশ্বের ছয়টি প্রধান শক্তি বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে’ প্রস্তুত। তবে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো মিশনে কাজ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যদিকে, জার্মানি ও ইতালির মতো মিত্র দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি না হলে আগে থেকে কিছু করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই মিশন শুরু করার আগে ট্রাম্পের সাহায্য চাওয়া দেশগুলোর কোনোটির সাথেই পরামর্শ করা হয়নি।

এদিকে, ইরানের কার্যকর অবরোধের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করার পর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *