ভাইরাল কাশ্মীরি চুড়িতে ঈদের রঙ, টুংটাং শব্দে নতুন ট্রেন্ড

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, হাতে গাঢ় মেহেদি আর রঙিন চুড়ির টুংটাং শব্দ। তবে এবারের ঈদে সেই পরিচিত সাজে যুক্ত হয়েছে নতুন এক ট্রেন্ড—কাশ্মীরি চুড়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই চুড়ি এখন পাকিস্তান পেরিয়ে বাংলাদেশেও তরুণীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

প্রথমে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির মোতি বাজার, এরপর ইসলামাবাদের বিভিন্ন শপিং মার্কেট—সব জায়গাতেই হঠাৎ বেড়ে যায় কাশ্মীরি চুড়ির চাহিদা। দোকানে ঢুকেই ক্রেতাদের প্রথম প্রশ্ন, ‘কাশ্মীরি চুড়ি আছে?’—এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। একই চিত্র এখন বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ ও অনলাইন দোকানগুলোতেও।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এই চুড়ি ঘিরে শুরু হয় নতুন উন্মাদনা। অনেকের ধারণা, এক ভিডিওতে পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান এই চুড়ি পরার পরই এর জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ নকশার কারণেই কাশ্মীরি চুড়ি সহজেই আলাদা করে নজরে পড়ে। সাধারণত একটি সেটে থাকে চারটি ছোট ঘুঙুর লাগানো কড়া, সঙ্গে চিকন কাঁচ বা ধাতব চুড়ি। লাল, সবুজ, সোনালি, টারকয়েজসহ নানা রঙের সমন্বয়ে সাজানো এই চুড়ি হাতে পরলে তৈরি হয় রঙিন ঝলক। আর হাত নড়লেই শোনা যায় মিষ্টি টুংটাং শব্দ—যা ঈদের সাজে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দামও। কয়েক মাস আগেও যে চুড়ির সেট ৩৫০ রুপিতে বিক্রি হতো, এখন তার দাম আরও বেশি। রাওয়ালপিন্ডির এক বিক্রেতার ভাষ্য, আগে এসব চুড়ি দোকানের গুদামেই পড়ে থাকত। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় পুরো স্টক।

ঈদের সময় সাধারণত কাঁচের বা পাথর বসানো চুড়ির চাহিদা বেশি থাকে। তবে এবার সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে কাশ্মীরি চুড়ি। বাংলাদেশেও এই চুড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ছবি দেখে অনেকেই নিজের ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফ্যাশনের জগতে ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি ভাইরাল ভিডিওই বদলে দিতে পারে বাজারের চাহিদা। এবারের ঈদে তাই মেহেদি রাঙা হাতে কাশ্মীরি চুড়ির টুংটাং শব্দেই তৈরি হচ্ছে নতুন উৎসবের আমেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *