কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় প্রাণহানিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবি। এই হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আফগান কর্মকর্তাদের মতে, সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রশিদ খান বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রশিদ লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের সর্বশেষ খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেসামরিক বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা অবকাঠামোতে হামলা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত, এটি যুদ্ধাপরাধ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।’
তিনি জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। ‘এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান জনগণের পাশে আছি। আমরা আবার সুস্থ হব, আবার উঠে দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ,’–যোগ করেন রশিদ।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি আবেগঘন বার্তায় এই হামলায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন।

নবি লেখেন, ‘আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আশা নিভে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের একটি বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছে। মায়েরা হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে তাদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে এই হামলা চালায়, যেখানে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করা হয়।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাতের মতে, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই হামলা হয় এবং প্রায় ২,০০০ শয্যার এই হাসপাতালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
তার দাবি অনুযায়ী, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা কর্মীরা টর্চলাইট নিয়ে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন এবং দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল এবং পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করা হয়নি।
এই অস্বীকৃতি সত্ত্বেও ঘটনাটি আফগানিস্তানজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এ ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।