২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলি নাগরিক ইয়েহুদা পিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও দেশটির নাগরিক নন। বিদেশি নাগরিক হিসেবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এমন নয়জন বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলের নাগরিক ইয়েহুদা পিয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধ অনুমতি রয়েছে পিয়ারের। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, যা মার্কিন আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ঘটনায় শুধু ইসরায়েলি নাগরিকই নন, পোল্যান্ড, কিউবা, কেনিয়া, রাশিয়া, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ২০২৪ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অবৈধ ভোট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি: মার্কিন অ্যাটর্নি

পেনসিলভানিয়ার মিডল ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি ব্রায়ান মিলার বলেন, অবৈধ ভোট দেওয়ার অপরাধ নির্বাচনের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এবং বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করে। এ কারণে এ ধরনের মামলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এমন কোনো অপরাধ নয়, যার কোনো ভুক্তভোগী নেই। বরং এটি আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির প্রতি গুরুতর আঘাত।’

মিলারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে বৈধ ভোট নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের ফিলাডেলফিয়া কার্যালয়ের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাথান অ্যাবেল বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে এবং বৈধ ভোটারদের প্রত্যেকের মতামতের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কথিত আইন লঙ্ঘন আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনসাধারণের আস্থা দুর্বল করে এবং যেসব নাগরিকের ভোটের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়ার কথা, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *