চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলার নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অটোরিকশাটিকে চাপা দেওয়া যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. দেলোয়ার হোসেন। তার মেয়ের নাম আসিফা। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে থাকা অন্য যাত্রীরাও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে আসিফার মৃত্যু হয়। একই পরিবারের বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাসে আগুন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ওপর হামলা
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
রাত ৮টার দিকে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ফলে আগুন নেভানোর কাজে বিঘ্ন ঘটে। দুর্ঘটনার পর ক্ষোভ থেকে বাসে আগুন দেওয়া এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মহাসড়কে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করা, পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির কারণে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। অনেক যাত্রী যানবাহন থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পুলিশের অভিযানে যান চলাচল স্বাভাবিক
রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল শুরু করতে সময় নেয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও ধাওয়া করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।