শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ শুরু পাকিস্তানের

ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। সালমান আলী আঘার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার সামনে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। পরের কাজটা সারেন পাকিস্তানের পেসাররা। দারুণ বোলিংয়ে লঙ্কানদের চেপে ধরেন তারা। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল জয় দিয়ে।

আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাজধানী রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা আর ইংরল্যান্ডকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে অলআউট হওয়ার আগে ৩০৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে ৪৮.১ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান তুলতে পারে শ্রীলঙ্কা। ফলে ৩৭ রানের জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল পাকিস্তান।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ৯ বল থেকে ৫ রান করেই বিদায় নেন ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো। এরপর তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩৪ বলে ১৮ রান করে ফাহিম আশরাফের বলে সাইম আইয়ুবের কাছে ক্যাচ দেন তিনি।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফসেঞ্চুরি কাছে পৌছে গিয়েছিলেন আরেক ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস। ৫০ বল থেকে ৪৪ রান করা এই ওপেনারকে ফেরান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর দ্রুতই চতুর্থ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। পাঁচ নম্বরে নামা সাহান আরচ্চিগেকেও (৫ বলে ৩) দ্রুতই সাজঘরের পথ দেখান শাহিন আফ্রিদি।

শতরানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন পাবন রত্নায়েকে আর জেনিথ লিয়াঙ্গে। পঞ্চম উইকেটে ১০৭ বলে ১১৯ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। এই জুটিতে ভর করেই জয়ের আশা দেখছিল লঙ্কানরা।

দারুণ ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন রত্নায়েকে। তাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। ৭৪ বলে ৭৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন রত্নায়েকে। কিছুক্ষণের মধ্যে আরেক থিতু হওয়া ব্যাটার লিয়াঙ্গেকে (৭৪ বলে ৬০) ফেরান হারিস আহমেদ।

এরপর উইকেটে শেষ ভরসা হিসেবে ছিলেন দাসুন শানাকা। শুরুটাও ভালো করেছিলেন তিনি। তবে আগ্রাসী মেজাজের সেই ব্যাটিং, বেশি সময় চালিয়ে যেতে পারেননি। ১৮ বলে ২৮ রান করা এই লঙ্কান অলরাউন্ডারকে ফেরান শাহিন আফ্রিদি। এতে জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার। শেষ পর্যন্ত ২৬৮ রানেই থামে তারা।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন শাহিন আফ্রিদি। সমান দুটি করে উইকেট নেন নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। ওপেনার ফখর জামান (১৯ বলে ১৬) ও সাইম আইয়ুব (৮ বলে ৭) ফিরে যান। সেখান থেকে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ বাবর আজম আর সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে শতরান ছাড়িয়ে নেন তারা।

ভালো শুরু পাওয়া বাবরকে ফিরিয়ে সেই ভাঙেন ইশান মালিঙ্গা। হাফসেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ৫৭ বলে ৪৫ রান করে আউট হন বাবর। এরপর আরেক থিতু হওয়া ব্যাটার সাদ বেগও বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ৪০ বলে ৩৯ রান করে আউট হন তিনি।

সেখান থেকে দারুণ জুটি গড়ে দলকে বড় রানের দিকে নিয়ে যান সালমান আলী আঘা আর হাসান নেওয়াজ। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটি থেকে আসে ৯৭ রান। হাসান ৪৯ বলে ৩৭ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

এরপর অবশ্য আর কেউ বড় রানের ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন সালমান। শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ১০৭ রান করে ফেরেন তিনি। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ৩০৫ রানে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন ইশান মালিঙ্গা। তিনটি উইকেট নেন আসিথা ফার্নান্দো আর দুটি উইকেট যায় দিলশান মাদুশাঙ্কার ঝুঁলিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *