কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাতারের শূরা কাউন্সিলের (আইনসভা) ৫৫তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর আলজাজিরার।
ভাষণে কাতার ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সম্প্রতি ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির বলেন, এই সংকট কাতারের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃঢ়তা ও সংহতিকে আরও একবার প্রমাণ করেছে।
কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কিউএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ তামিম তার ভাষণে দেশীয় বিষয়াবলির পাশাপাশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শেষের দিকে ইরান কর্তৃক উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালানোর ঘটনায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমির।
আমির শেখ তামিম জানান, স্ট্রেইট অব হরমুজ বা হোরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের অন্যতম বৃহৎ রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার কারণে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান সংকট শুরুর আগেই গৃহীত সঠিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নীতির কারণে কাতার এ ধরনের বৈরী পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে উঠতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কাতারের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ তামিম বলেন, বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একা কাতার পরিচালনা করে। ফলে কাতারের জ্বালানি খাতে যেকোনো ধরনের আঘাত সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজার এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলে।
তবে বিশ্বব্যাপী চলমান এই চ্যালেঞ্জিং সংকট থেকে কাতার আরও শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক এবং আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী হয়ে বের হয়ে আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমির শেখ তামিম।