এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ডিফেন্সের ভুলে গোলহজম করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার পথেই হাটছিল বাংলাদেশ। তবে বদলি নেমে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন সুপার-সাব রুনা আক্তার। প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উজবেকিস্তানের দোস্তলিক স্টেডিয়ামের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ফিলিপাইন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। সেটার ফলাফল পেতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোল আদায় করে নেয় বাংলাদেশ।
মাঝমাঠ থেকে ফাতিমা আক্তার ক্রস বাড়ান ডানপ্রান্তে। সেই বল ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড পূর্ণিমা মারমা। তাকে আটকাতে গোলরক্ষক এগিয়ে গেলে চিপ করে গোলমুখে ক্রস বাড়ান তিনি। টোকা দিয়ে সেটি জালে জড়িয়ে দেন আলমিনা আক্তার।
তবে বাংলাদেশের ডিফেন্সের ভুলে ম্যাচে সমতায় ফেরে উজবেকিস্তান। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে সতীর্থের কাছ থেকে পাওয়া বল পাস করতে কিছুটা দেরি করে ফেলেন ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন। তার ওপর প্রেশার তৈরি করে সেটি কেড়ে নিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান উজবেক ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক মেঘলা ড্রাইভ দিলেও বলের নাগাল পাননি।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। মিডফিল্ড থেকে বাড়ানো বল আটকাতে গোলবার ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক। ফাঁকা বার পেয়েও সেই বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি আল্পি আক্তার।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে কর্নার থেকে সরাসরি অলিম্পিক গোলের চেষ্টা করেছিল উজবেকিস্তান। তাদের সেই প্রচেষ্টা আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেঘলা রাণী। পরের মিনিটেই আবারও উজবেকিস্তানের দুর্বল প্রচেষ্টা সহজেই আটকে দেন গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত দুই দলই চেষ্টা করে গোল আদায় করতে না পারলে ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ আর স্বাগতিক উজবেকিস্তান।
বিরতি থেকে মাঠে ফিরেও নিজেদের খুব একটা মেলে ধরতে পারছিল না বাংলাদেশ। বল দখলে এগিয়ে থাকলে আক্রমণে সাফল্য পাচ্ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বারবার আটকে যাচ্ছিল ফাইনাল থার্ডে গিয়ে।
ম্যাচের ৭০তম মিনিচে লিড নেওয়ার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন আলপি। গোলের জন্য শটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খুব একটা জোড়ালো ছিল না সেটি। ঝাপিয়ে পড়ে আটকে দেন উজবেক গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়িয়ে ছিল উজবেকিস্তান। বক্সের মধ্যে জটলা থেকে বল পেয়ে অনেকটা কাছে থেকে গোলের জন্য শট নিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে বিপদ হতে দেননি গোলরক্ষক মেঘলা।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো লং বল নিজেরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে যান বদলি নামা রুনা আক্তার। গতির ঝলকে সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
চার মিনিট পর বাঁ প্রান্তে সেটপিস পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে সরাসরি গোলের জন্য চেষ্টা করেছিল। তবে বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে। এর পরপরই রেফারি শে বাঁশি বাজালে জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।