হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা শনিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর এলিট ‘রাদওয়ান ফোর্সেস’-এর বেশ কয়েকটি ‘কমান্ড সেন্টার’ ধ্বংস করেছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী আরো জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের আল-কাতরানি এলাকায় হিজবুল্লাহর বেশ কিছু রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ  মানুষ। এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলে তথ্যপাচারের অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ২০

ইসরায়েলের কাছে গোপন তথ্যপাচারের অভিযোগে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলে পাচার করছিল।

প্রসিকিউটরের বিবৃতিতে বলা হয়, “জায়নবাদী শাসনের দালালদের বেশ কয়েকটি নেটওয়ার্ক, যারা শত্রু পক্ষকে সামরিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থানের বিস্তারিত তথ্য পাঠাচ্ছিল, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আটক রাখা হয়েছে।”

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের একটি নতুন ধাপ শুরু করেছে। এই ধাপে তারা মূলত মাঠ পর্যায়ের তথ্যদাতাদের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে নিরাপত্তা চৌকিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইসরায়েলে একদিনে ১০৮ জন আহত

ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ জন আহত ইসরায়েলিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।  

পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, মন্ত্রণালয় এই আহতদের কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি। এর মধ্যে কিছু আঘাত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের সরাসরি আঘাতের পরিবর্তে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময়ও ঘটতে পারে। খবর আল-জাজিরার।

রবিবার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে বর্তমানে ৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইরানের শিরাজ শহরে ‘অমানবিক’ হামলা

ইরানের ফার্স প্রদেশের রাজধানী শিরাজের আবাসিক এলাকাগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, জায়নবাদী-মার্কিন অপরাধী শাসনগোষ্ঠী শিরাজ শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় সন্ত্রাসী এবং অমানবিক হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে লক্ষ্যবস্তু করা আবাসিক ইউনিটগুলো ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বাসিন্দাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের ইসফাহানে ব্যাপক বিমান হামলা

ইরানে এখন স্থানীয় সময় রবিবার সকাল। ভোররাতে দেশটির ইসফাহান শহরে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী আবারো ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। 

আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে, ভোর হওয়ার সাথে সাথে মধ্য ইরানের শহর ইসফাহানের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ জমছে। একটি ভিডিও ক্লিপে যুদ্ধবিমানগুলোকে বেশ নিচ দিয়ে উড়ে যেতে দেখা গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে মার্কিন-ইসরালি হামলায় ১৫ জন কারখানার শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থানটি একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। এটি একটি রেফ্রিজারেটর এবং হিটার তৈরির কারখানা। হামলায় আরও অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসফাহান শহরটি হামলার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর; শুধু যে এটি দেশের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত তা-ই নয়, বরং এখানে অসংখ্য সামরিক ও বেসামরিক কারখানা এবং স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোও এখানেই অবস্থিত।

শনিবার হামলার শিকার হওয়া ইরানের অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরান, তাবরিজ, বন্দর আব্বাস ও কেরমান প্রদেশের সিরজান।

সৌদি আরবে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত, দায় অস্বীকার ইরানের

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাজধানী রিয়াদ ও দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোর আশেপাশে ১০টি ড্রোন হামলা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, এই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই হামলার সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো যোগাযোগ নেই এবং সৌদি সরকারের উচিত এই হামলার উৎস খুঁজে বের করা।”

এ ঘটনার একদিন আগেই শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের কেন্দ্রীয় ইউনিফাইড কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ একটি বিবৃতিতে দাবি করে, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *