বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ডাববাহী অবৈধ নছিমন ও বিপরীতমুখী তিনটি মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের দোনা এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মোরেলগঞ্জের দোনা গ্রামের জামাল মাস্টারের ছেলে সোয়েব হোসেন (১৬), একই গ্রামের নজরুল খানের ছেলে আমিন খান (২২) এবং কালিকাবাড়ি গ্রামের বাবুল মোল্লার ছেলে রিমন মোল্লা (২৫)।
আহতদের মধ্যে দোনা গ্রামের রিয়াদ হোসেন (১৮) ও গুলিশাখালী গ্রামের রিয়াজুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পিরোজপুর থেকে আসা উজ্জ্বল চন্দ্র দাস, তার স্ত্রী অপর্ণা দাস ও শিশু কন্যা উমা দাস মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর-বাগেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দোনা এলাকায় প্রধান সড়কে দ্রুতগতির একটি ডাব বোঝাই নছিমনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তিনটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের একটার পর একটা মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। বিকট শব্দে মোটরসাইকেলগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ও আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসিফাত খান তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই তিন যুবকের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেলগুলোর গতি অতিরিক্ত বেশি ছিল এবং নিহত কিংবা আহত চালকদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। অন্যদিকে ঘাতক নছিমনটিরও গতি বেশি ছিল এবং সেটির হেডলাইট বন্ধ বা অকেজো ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই নছিমনের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।