গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রদলনেতার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলনেতা মো. রিজভীর (২৪) বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই ছাত্রী তার বাসার সামনে দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে সেখান থেকে সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রদলনেতা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণ করে বলে দাবি পরিবারের।
অভিযুক্ত রিজভী উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদীঘি গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় ওই ছাত্রদলনেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।
এ ঘটনায় ছাত্রদলনেতা রিজভী তার বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রীর অভিভাবক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত ছাত্রদলনেতা রিজভী। বিষয়টি ছাত্রী তার মা-বাবাকে জানান। পরে তার পরিবার ছাত্রদলনেতা রিজভীকে তাকে উত্ত্যক্ত করতে বারণ করে। এতে তার উৎপাত আরও বেড়ে যায়। নিরুপায় হয়ে ওই ছাত্রীর মা-বাবা বিষয়টি রিজভীর বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা বেগমকে জানান। ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ না করে উল্টো ওই ছাত্রীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় তার পরিবার। ছাত্রীর পরিবার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে রিজভী ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণ করেন।
এ দিকে ঘটনার পর পরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সরকার মো. রাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে রিজভীকে বহিষ্কার করা হয়।
বক্তব্য জানতে ছাত্রদলনেতা রিজভীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠায় রিজভীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।