ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম আর্জেন্টিনার

ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রসীমায় তেল উত্তোলন প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, সি লায়ন প্রকল্প বন্ধ না হলে দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে যাবে আর্জেন্টিনা।

মিলেই বলেন, উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় সি লায়ন প্রকল্প নিয়ে সালিশি কার্যক্রম শুরুর জন্য তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনকে অবৈধ মনে করে। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের অ্যনেক্স ৭-এর অধীনে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে সি লায়ন তেলক্ষেত্র অবস্থিত। প্রকল্পটির ৬৫ শতাংশ মালিকানা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস পেট্রোলিয়ামের এবং বাকি ৩৫ শতাংশ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশনের।

নাভিটাস জানিয়েছে, প্রকল্পটির জন্য চূড়ান্ত বিনিয়োগ অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ২০২৮ সালের মার্চে প্রথম তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ভাসমান উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহকারী জাহাজের সঙ্গে যুক্ত ১১টি সমুদ্রতল কূপ স্থাপন করা হবে।

তেল কোম্পানিগুলো আর্জেন্টিনার অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের সরকার আইনসম্মতভাবে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স দিয়েছে। অনুমোদনের ভিত্তিতেই তারা কাজ করছে এবং এতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন রয়েছে।

আর্জেন্টিনার দাবি, বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ জাতিসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। এসব প্রস্তাবে ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যকে বিরত থাকার আহ্বান জানানও হয়েছে।

ফকল্যান্ডসকে ঘিরে তেল ও গ্যাস কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে মিলেই সরকার। সর্বশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধটি সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় নেওয়ার উদ্যোগ নিল বুয়েনস আয়ার্স।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান হলো, ফকল্যান্ডস একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি এবং দ্বীপটির বাসিন্দাদের নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, সেখানে আইনসম্মতভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা পূর্ণ সমর্থন করে।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *