২৭ সেপ্টেম্বর কিয়েভে বিমান হামলার পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা তাদের ফ্ল্যাট থেকে ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা পরিষ্কার করে তা বাইরে ফেলে দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি
ইউক্রেনজুড়ে রুশ সামরিক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সর্বশেষ হামলায় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয় শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় সময় আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে খারকিভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে রুশ বাহিনীর একটি গাইডেড বোমা আঘাত হানে। এতে ভবনটির দুটি তলা ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ। খবর আল জাজিরার।
এর আগের দিন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানান, উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে বিমান হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। হামলায় একটি শিশু কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষ্ণসাগরীয় ওদেসা অঞ্চলেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন, একটি দোকান, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজধানী কিয়েভেও রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কিয়েভের প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টি বিমানবোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত, তাহলে এই মাত্রার ‘শাহেদ’ ড্রোন হামলা চালানো হতো না। রাশিয়া ইউক্রেনে ইরানে তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভে ইউক্রেনের ‘কিয়েভস্টার’ কোম্পানির একটি ডেটা সেন্টার এবং ওমেগা টেলিকমের আরেকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে সেবা দিচ্ছিল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, মস্কো তাদের সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাবে।
এদিকে সোমবার ইউক্রেনের ড্রোন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ইউক্রেনের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই স্থাপনায় বড় ধরনের আগুন দেখা যায়। স্থাপনাটিকে পাভলোভস্কায়া তেল ডিপো হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
সর্বশেষ ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একাধিক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
sn/sks