মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ড্র বা জয় পেলে দারুণ হবে: বাংলাদেশ কোচ

রাতারাতি বদলে যাওয়ার কোনও জাদুর কাঠি নেই ফুটবলে। নেই এমন কোনও ওষুধ, যা খেলে মুহূর্তেই একটি দল ১০০ শতাংশ ফিট হয়ে যাবে কিংবা ফুটবলের সবকিছু বুঝে ফেলবে। বাংলাদেশের ফুটবল যে এখনও পিছিয়ে, সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি। ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ মেনে নিয়ে তাই বাস্তববাদী হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন জার্মান-আমেরিকান কোচ।

শুরুতে এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল না বাংলাদেশের। ভারত নাম প্রত্যাহার করায় সুযোগ আসে লাল-সবুজ দলের সামনে। প্রথমবারের মতো ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় মাঠে নামছে শুক্রবার। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচ, যা সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষ এবং টুর্নামেন্টের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন ডুলি। এই আসরকে তিনি আগামী নভেম্বরে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে নিজেদের প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে আসিয়ান কাপের তিন প্রতিপক্ষের শক্তির পার্থক্যও তার অজানা নয়। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান দল নিয়ে বাস্তবতার কথাই বলেছেন বাংলাদেশ কোচ।

প্রায় আট বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের স্মৃতি মনে করে ডুলি বলেন, ‘আমি আমার অধিনায়কের সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগের ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি নিয়ে কথা বলছিলাম। আমরা মাঠের প্রায় প্রতিটি অংশেই আধিপত্য বিস্তার করেছিলাম…। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। প্রথমত, এটি বাংলাদেশের জন্য নয়, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান খেলোয়াড়দের মান ও দক্ষতার উন্নতির কারণেই এমনটি হয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান দলটি কেন এতটা শক্তিশালী, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ডুলির ভাষায়, ‘এশিয়ার বেশিরভাগ দলের জন্যই ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলা এখন বেশ কঠিন। কারণ তাদের দলে জার্মান বুন্দেসলিগা, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির লিগে খেলা কিছু খেলোয়াড় আছে। আমার যখন খেলেছিলাম, তখনকার তুলনায় একদম ভিন্ন একটি দল। তাই আমার মনে হয় না, আমাদের তেমন কোনও সুযোগ আছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে।’

বাংলাদেশের অনেক সমর্থক অবশ্য বড় স্বপ্ন দেখছেন। ডুলি সেই প্রত্যাশার কথাও জানেন। তবে মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সেটির পার্থক্যটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমি জানি বাংলাদেশের অনেক ভক্ত ভাবেন যে আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেবো। কিন্তু এটা অনেক কঠিন।’

ডিভিশন-১-এর ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও তিন দলই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মালয়েশিয়া ১৩৬ নম্বরে, সিঙ্গাপুর ১৪৬ এবং বাংলাদেশ ১৮১ নম্বরে।

শক্তির এই ব্যবধান তুলে ধরে ডুলি বলেন, ‘র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া (১৩৬) আমাদের চেয়ে প্রায় ৪৫ ধাপ এগিয়ে। এটি বেশ বড় ব্যবধান। সিঙ্গাপুর (১৪৬) আমাদের (বাংলাদেশ ১৮১) চেয়ে ৩৫ ধাপ এগিয়ে, আর এরপর আছে ইন্দোনেশিয়া। জানি, এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ।’

তবে আন্ডারডগ মানেই যে লড়াই করার সুযোগ নেই, সেটিও বোঝাতে চেয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ হারলেও জয়ের কাছাকাছি ছিল।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আরও কঠিন হবে উল্লেখ করে ডুলি বলেন, ‘ভালো ফল করা, যেমন ১-০ গোলে হারা বা ড্র করতে পারাটা আমাদের জন্য সাফল্য হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের উন্নতির পথ।’

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, একটি দলের মান একদিনে বদলে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক উন্নতি। ডুলি বলেন, ‘এমন কোনও ওষুধ নেই, যা খেলে হঠাৎ আপনি ১০০ শতাংশ ফিট হয়ে যাবেন বা ফুটবল বুঝে যাবেন। কেন আমরা ১৮১ নম্বরে আর অন্য দলগুলো ১৫০, ১৩০ বা ১০০-র নিচে? আমরা সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি যে কীভাবে সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়। আর তা কেবল ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমেই সম্ভব।’

এ সময় প্রতিপক্ষের মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে যেমন বাংলাদেশ হারতে চায় না, তেমনি বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে মালয়েশিয়া, ‘মালয়েশিয়াও ঠিক আমাদের মতোই চিন্তা করে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সময় আমরা যেমন ভুটানের বিরুদ্ধে হারতে চাই না, মালয়েশিয়াও ঠিক একইভাবে আমাদের কাছে হারতে চায় না।’

সবশেষে অবশ্য স্বপ্ন দেখার জায়গাটাও খোলা রেখেছেন ডুলি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে ড্র কিংবা জয় সবই তার প্রত্যাশার মধ্যে আছে। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি ভালো ম্যাচ হলে, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে ড্র করতে পারলে বা একটা জয় পেলে দারুণ হবে। জয় পাওয়াটা হবে চমৎকার ব্যাপার। তবে স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে, তাই না?’

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *