লেস্টার সিটির সঙ্গে প্রায় দুই দশকের সম্পর্ক। সেই একাডেমি থেকে উঠে আসা এবং ক্লাবটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয় দেখা, এফএ কাপ জেতা। লেস্টারের সঙ্গে হামজা চৌধুরীর গল্পটা ছিল দীর্ঘ এক পথচলার। সেই পথচলার সমাপ্তি হলো এবার। লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে এক বছরের চুক্তিতে দলে নিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে হামজাকে দলে নিতে কত খরচ গুনতে হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষই।
শেফিল্ডে অবশ্য হামজার ফেরা নতুন কিছু নয়। ২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে ‘দ্য ব্লেডস’ক্লাবটির হয়ে খেলেছিলেন তিনি। ওই সময়ে ১৬টি লিগ ম্যাচে মাঠে নামার পাশাপাশি সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালেও খেলেন বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডার। যদিও ফাইনালে হেরে শেফিল্ডের প্রিমিয়ার লিগে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে হামজার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের।
বিশেষ করে ধারে কাটানো সময়ের শেষ ১০ ম্যাচে হামজাকে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছেন ওয়াইল্ডার। প্লে-অফের সেমিফাইনাল ও ফাইনালও ছিল সেই সময়ের অংশ। সেই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত শেফিল্ডকে স্থায়ীভাবে হামজাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলে।
হামজার একাধিক সক্ষমতাও শেফিল্ডের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মূলত মিডফিল্ডার হলেও প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। দলের রক্ষণভাগে এই পজিশনে প্রতিযোগিতা বাড়াতেই হামজাকে ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা দেখেছিলেন ওয়াইল্ডার।
হামজাকে নিয়ে শেফিল্ড কোচ বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, হামজা ওই ভূমিকায় খেলতে পারে এবং এর বাইরেও আরও অনেক কিছু দিতে পারে। এখানে তার প্রথম স্পেলের শেষ ১০ ম্যাচে সে সম্ভবত আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিল।’
ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার সম্পর্কও বেশ পুরোনো। ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে থাকার সময় এই কোচের অধীনেই খেলেছিলেন তিনি। পরে শেফিল্ড ইউনাইটেডেও দুজনের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়। ফলে পরিচিত কোচ, পরিচিত পরিবেশ আর আগের পারফরম্যান্স মিলিয়েই এবার স্থায়ীভাবে শেফিল্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হামজা চৌধুরী।