ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে সোচ্চার অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার মতে, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিসেবে ইমরান খানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।

এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক অধিনায়ক। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক তারকাদের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে ইমরান খানের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসেও একই দাবিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিলেও তখন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন উদ্যোগ নেন ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা।

সম্প্রতি ‘দা গ্রেড ক্রিকেটার’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ও কিংবদন্তি গ্রেগ চ্যাপেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সেই ভিডিও শেয়ার করে সাবেক অধিনায়ক ও গ্রেগ চ্যাপেলের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন কামিন্স।

এ বিষয়ে কামিন্স বলেছেন, ‘গ্রেগ চ্যাপেলসহ অন্য সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের দাবির সঙ্গে আমিও পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। আশা করি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত রাখা হবে। প্রতিটি মানুষের যে ন্যূনতম মর্যাদা প্রাপ্য, আশা করি ইমরান খানের ক্ষেত্রেও সেটি নিশ্চিত করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ আনা হলেও তিনি ও তার দল বরাবরই এসব অভিযোগকে মিথ্যা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর চাউর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

এদিকে গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তির কথা থাকলেও তাকে নেওয়া হয় সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে। সেখানে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করে আবারও কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাকে। 

বর্তমান সময়ের সক্রিয় অধিনায়কদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে মুখ খুললেন প্যাট কামিন্স।

চলমান লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে লাঞ্চ বিরতির সময় স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খান।

অন্যদিকে, কারাগারে ইমরানের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার কিংবা পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গত সপ্তাহে এক সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের আগস্টে বন্দি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা প্রায় ৯০০ বারের বেশি ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।

পাকিস্তানের জার্সিতে ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলা ইমরান খান দেশটির সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই খাদের কিনারা থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *