কুশাখালীতে ফের ইউনিয়ন যুবদলের ১৮ নেতার পদত্যাগ!

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীন কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নতুন ঘোষিত কমিটি ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য ও আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিতদের কমিটিতে রাখার অভিযোগ তুলে এবার পদত্যাগ করেছেন নবগঠিত কমিটির ১৮ জন নেতা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় কমিটি গঠন, একের পর এক গণপদত্যাগ এবং কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে কমিটি বিলুপ্তির মতো ঘটনায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের কাছে এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক এবং মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে কুশাখালী ইউনিয়নে যুবদলের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন দেন চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্য সচিব আবদুল মুকিত সোহেল। তবে নতুন এই কমিটি ঘোষণার পরপরই আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে। এরই জের ধরে নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম ও আজিম উদ্দিন বাবলুসহ ১৮ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন।

এর আগে গত ২৬ জুলাই আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করে প্রথম দফায় ৩১ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রবাসীদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কমিটি করা এবং ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগে ১৬ জন নেতা পদত্যাগ করেন। তোপের মুখে পড়ে ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তৎকালীন ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় প্রথম কমিটির পদত্যাগী যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক উল্যা অভিযোগ করেছিলেন যে, তাকে আহ্বায়ক পদ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় বিএনপি ও থানা যুবদল নেতারা দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। নাটকীয়ভাবে সেই রফিক উল্যাকেই এবার নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

বারবার কমিটি গঠন ও পদত্যাগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় যুবদল কর্মীরা জানান, টাকা যার, পদ তার—এমন নীতিতে দল চলায় কুশাখালীতে যুবদলের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

তবে টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা বলেন, মূলত আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন জানান, ১৮ জনের পদত্যাগের খবর সঠিক নয়, দলীয় ক্ষোভ থেকে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন। নবগঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা দলের পরীক্ষিত নেতা বলেও দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *