ঢাকার মঞ্চে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ অবলম্বনে নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসছে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ শুধু পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবনকথা নয়; এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের দারিদ্র্য, শ্রেণিশোষণ, প্রেম, যৌনতা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। নতুন এই প্রযোজনায় জেলেদের জীবনকে কেবল দারিদ্র্যের করুণ চিত্র হিসেবে নয়, বরং তাদের শ্রম, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক সম্পর্ক ও অস্তিত্বসংকটের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ কেন এখন মঞ্চে—এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে। সময় বদলালেও শ্রমজীবী মানুষের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রেণিগত ক্ষমতার অসমতা এবং ভালো জীবনের স্বপ্ন এখনো বাস্তবতার অংশ। তাই প্রায় এক শতাব্দী আগের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আখ্যান বর্তমান সময়েও নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
প্রযোজনাটির মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের। প্রাথমিক নাট্যরূপ করেছেন মো. রেজওয়ান এবং নাট্যপরামর্শক হিসেবে রয়েছেন ড. জাহারাবী রিপন। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করেছেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব।
নির্দেশক সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, “এই উপন্যাসকে মঞ্চে আনার মধ্য দিয়ে আমরা অতীতের ভেতর থেকে বর্তমানকে প্রশ্ন করতে চেয়েছি। মানুষের দারিদ্র্য যেমন বাস্তব, তেমনি তাদের প্রেম, কামনা, দুর্বলতা ও স্বপ্নও বাস্তব।”
প্রযোজনায় কুবের চরিত্রে রাইসুল ইসলাম রোমান, কপিলা চরিত্রে নুসরাত লামিয়া, হোসেন মিয়া চরিত্রে আতিকুল ইসলাম, গণেশ চরিত্রে মো. রেজওয়ান এবং মালা চরিত্রে তাসনিম হায়দার লুবনা অভিনয় করছেন। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
প্রযোজনার আলো, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা, পোশাক, রূপসজ্জা, সংগীত, প্রক্ষেপণ ও দৃশ্যসজ্জায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যুক্ত রয়েছেন।
প্রযোজনা অধিকর্তা অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। প্রযোজনা উপদেষ্টা উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ ও অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম। প্রযোজনা সমন্বয়ক নওরীন সাজ্জাদ।
২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে নাটকটির প্রদর্শনী হবে।