রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন এবং বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে বিচক্ষণতা ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জেস অব রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন: ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি কেবল একটি মানবিক বিষয় নয়; এটি মানব নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তের কারণে গত নয় বছর ধরে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব পালন বাংলাদেশের জন্য এক ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীত ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে নিবিড় ও ধীরস্থির কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সঠিক কৌশলগত কূটনীতি ফলপ্রসূ হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে সরকারের ৬ দফা কৌশলগত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে—জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ বৃদ্ধি, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি উভয়ের সাথে দ্বৈত-পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা, ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্তে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
মিয়ানমার কর্তৃক ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে যাচাই করার সাম্প্রতিক ঘোষণাকে মায়ানমার সরকারের একটি আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল বলে মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান গণহত্যার মামলা কাটানোই তাদের মূল লক্ষ্য, প্রকৃত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা এখনো দৃশ্যমান নয়।