পলিথিন বর্জ্য থেকে ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন তৈরি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন। উদ্যোক্তার আশা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায় ‘আহিল পেট্রোলিয়াম লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানটি এ জ্বালানি উৎপাদন করছে। উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব বলেন, ২০১৮ সালের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটির কাজ শুরু করেন তিনি। থাইল্যান্ডের সেপকো কোম্পানির প্রযুক্তিগত পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) দিকনির্দেশনায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে কারখানায় প্রতিদিন এক টন পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন রয়েছে। উৎপাদিত গ্যাস বর্তমানে কারখানার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজাত হিসেবে পাওয়া কালো কার্বন সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা থেকে প্রিন্টারের কালি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তা বলেন, পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদনের এ পদ্ধতিকে পাইরোলাইসিস প্রসেস বলা হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের অণুগুলো ভেঙে তরল গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। পরে তাপমাত্রা কমিয়ে সেটিকে ঘনীভূত করে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনে আলাদা করা হয়। অবশিষ্ট গ্যাস পরিশোধনের মাধ্যমে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ইউসুফ আহমেদ গালিব বলেন, ২০১৮ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফলতার পর বিসিএসআইআরে উৎপাদিত জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত শুরু করেন তিনি। তার দাবি, বিসিএসআইআরের পরীক্ষায় উৎপাদিত জ্বালানির মান ৯৩.৫৬ পাওয়া গেছে।

কারখানাটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বাবলু ও মাহিন সিদ্দিকী বলেন, পলিথিন বর্জ্য বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা। অন্যদিকে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ছে। তাই পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের এ উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের প্রকল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের সরকারি সহযোগিতারও দাবি জানান তারা।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, পলিথিন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *