মানবপাচার মামলায় পাঁচজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) পিরোজপুরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মেহেদী আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘটিচোরা এলাকার মো. কুদ্দুস, হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকার মো. কাসেম ওরফে কাদের মোল্লা, চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকার রবিউল আলম ওরফে মানিক, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জামাল সিকদার ওরফে জিয়া এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকার পলাশ চৌধুরী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মঠবাড়িয়া থানায় মামলাটি ২০১৪ সালের ৩ জুন করা হয়। পরে মামলাটি পিরোজপুরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ভোগ করতে হবে।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি জামাল সিকদার ওরফে জিয়া এবং পলাশ চৌধুরী আদালতে উপস্থিত থাকায় তাদের সাজা পরোয়ানামূলে পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাজা ঘোষণার দিন থেকেই তাদের দণ্ড কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, পলাতক তিন আসামি মো. কুদ্দুস, মো. কাসেম ওরফে কাদের মোল্লা এবং রবিউল আলম ওরফে মানিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক আসামিদের সাজা পরোয়ানা জারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মানস কুমার বৈরাগী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *