ডারউইনে তৃতীয় দিনেও দাপট দেখাল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে সুন্দর সকাল কাটিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদরা। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করে দ্বিতীয় সেশনেও কিছুটা ব্যাটিং করে বড় লিড দিয়েছিল স্বাগতিকদের। এরপর বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন টাইগাররা। প্রথমে হাসান মাহমুদদের পেস, পরে তাইজুল ইসলাম-মিরাজদের স্পিনে আটকেছে স্বাগতিকরা ব্যাটাররা। দারুণ পারফরম্যান্সে এগিয়ে থেকেই তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। এখনো পিছিয়ে আছে ৬৭ রানে। ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন আর ৫০ বলে ১৯ রানে অ্যালেক্স ক্যারি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নিজের প্রথম ওভারে আক্রমণে এসে ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ফেরান হাসান মাহমুদ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি অসি ওপেনার।
এরপর উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১০ ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসে তাকেও ফিরিয়ে দেন হাসান। ৩৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন স্টিভেন স্মিথ আর মার্নাস লাবুশেন। ৫৮ বলে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ২০ ওভারে টাইগার স্পিনারের মিডল ও লেগ স্টাম্প বরাবর ফুল লেংথের বল মিস করে বোল্ড হন লাবুশেন। এর আগে ৫৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি।
দ্রুতই ৩ উইকেট হারানো অসিদের বাঁচানোর দায়িত্ব এসে পড়ে স্মিথের কাঁধে। এবার তিনি প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে। এই দুজন মিলে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে দেন উইকেটে। বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়িয়ে গড়েন ১০৬ বলে ৪৯ রানের জুটি।
অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৮তম ওভারে স্মিথের দারুণ একটি ফিরতি ক্যাচ নেন মিরাজ। অভিজ্ঞ এই তারকাকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ফেরে বাংলাদেশ। ৮৮ বলে ৪৪ রান আসে স্মিথের ব্যাট থেকে।
শেষ বিকেলে আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ। গ্রিন আর অ্যালেক্স ক্যারি মিলে নিরাপদে অস্ট্রেলিয়াকে পার করে নেন। ৯৪ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন তারা।
এর আগে ৪ উইকেট হাতে রেখে ৩৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান আগেরদিন ব্যাটহাতে অসি বোলারদের হতাশ করা হাসান মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ৯২ বল খেলে ১৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এতে ভাঙে ১৪৬ বলে ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি।
এরপর উইকেটে এসে শুরুটা ভালোই করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরাজের সঙ্গে ২৫ বলে ১৮ রানের জুটিও গড়েছিলেন তিনি। তবে বেশি সময় উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি। ২৩ বলে ১৭ রান করে হ্যাজলউডের শিকার হন তিনি।
দিনের শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর সেই ধাক্কা সামলে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও স্বাগতিক বোলারদের শাসন করতে থাকেন মিরাজ। এর মাঝেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফসেঞ্চুরি। দারুণ একটি সেশন কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরে অবশ্য আর সুবিধা করতে পারেননি টাইগাররা। প্রথম ওভারেই হাফসেঞ্চুরি করা মিরাজের উইকেট তুলে নেন হ্যাজলউড। উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে টাইগার অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান।
এরপর আর ৫ ওভার টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাসকিন-ইবাদত হোসেনের শেষ উইকেট জুটিতে আসে ২৬ বলে ৮ রান। ১৮ বলে ৭ রান করে ইবাদত ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দুই উইকেটই নেন হ্যাজলউড। প্রথম ইনিংসে সর্বমোট ৬ উইকেট পেয়েছেন তিনি।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান করেছে বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া থেমেছিল ১৯৮ রানে। ফলে বাংলাদেশ লিড পেয়ছে ২২৮ রানের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ১৩৮ ওভারে ৪২৬/১০ (সাদমান ২০, তামিম ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, ইবাদত ৭, তাসকিন ১৪*; স্টার্ক ২৬-৩-৭৯-২, হ্যাজলউড ২৮-৩-৮৯-৬, গ্রিন ১০-২-৩৪-০, কামিন্স ২৭-৪-৭৫-১, লায়ন ৩১-৪-১০২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৪-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০
অস্ট্রেলিয়া (দ্বিতীয় ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (ওয়েদারাল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, ক্যারি ১৯*; তাসকিন ১২-৩-৩৮-০, হাসান ১১-২-৩৩-২, ইবাদত ৮-০-৩৮-০, তাইজুল ৯-০-২৮-১, মিরাজ ১৩-৪-২০-১)