বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একসময় এমন দিনও দেখতে হয়েছে, যখন পেসারদের স্বর্গরাজ্যেও দল একাদশ সাজাত দুই বা তিন স্পিনার নিয়ে। তবে দিন বদলেছে, পেস বিপ্লবের হাত ধরে বদলাচ্ছে বাংলাদেশও। স্পিন-নির্ভরতার চেনা গণ্ডি পেরিয়ে টাইগাররা এখন প্রবেশ করেছে পেস বোলিংয়ের আধুনিক যুগে।
গত কয়েক বছর ধরেই সাদা কিংবা লাল বল—সব ফরম্যাটেই নিজেদের অন্যতম শক্তি হিসেবে জানান দিচ্ছে বাংলাদেশের পেস ইউনিট। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান কিংবা তরুণ নাহিদ রানাদের গতির ঝড়ে এখন বিশ্বসেরা ব্যাটারদের মনেও সৃষ্টি হয় সমীহ।
একসময় এশিয়ার বাইরে জয় পাওয়াটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য দুষ্কর। সেই চিত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের টেস্টে হারানোর পর এশিয়ার কন্ডিশনে জয় এখন টাইগারদের জন্য একপ্রকার নিয়মিত গল্প। তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি বাকিই ছিল—পেসারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঠিক কেমন করবে বাংলাদেশ? দীর্ঘ ২৩ বছর পর হাসান মাহমুদ-ইবাদত হোসেনদের সামনে আসে সেই বড় মঞ্চে প্রমাণের সুযোগ।
ম্যাচের আগে ক্রিকেটপাড়ায় বাড়তি আলোচনা ছিল গতির ঝলক দেখানো নাহিদ রানাকে নিয়ে। কিন্তু চোটের কারণে তিনি ছিটকে পড়ায় অসিদের পেসবান্ধব উইকেটে টাইগার পেস আক্রমণ কতটা নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে, সে প্রশ্ন উঠেছিল বেশ জোরেশোরেই।
মাঠে নেমে সব প্রশ্নের উত্তর প্রথম দিনেই দিয়ে দিল বাংলাদেশ। পেস বোলিংয়ের প্রথম পরীক্ষায় বলা চলে লেটার মার্ক পেয়েই পাস করেছেন টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে পেস আগুনে পুড়িয়ে রীতিমতো কোনঠাসা করে ছেড়েছেন হাসান-ইবাদতরা।
জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে প্রথম দিনের সকালে দারুণ সূচনা করেছিলেন হাসান মাহমুদ। এরপর চা-বিরতির পর পর্যন্ত অসি শিবিরে নিয়মিত হানা দেন তাসকিন ও ইবাদতরা। ধারালো আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১০টি উইকেটের সব কটিই নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন পেসাররা। যেখানে বল হাতে একাই ঝড় তুলেছেন হাসান মাহমুদ—তুলে নিয়েছেন ৬টি উইকেট। বাকি ৪টি উইকেট সমানভাবে ভাগ করে নেন তাসকিন ও ইবাদত। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের ইনিংসে ১০টি উইকেটের সব কটিই নেওয়ার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন আধিপত্যপূর্ণ পারফরম্যান্সে হাসান-তাসকিনরা প্রামাণ করলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পেস ইউনিটকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা—তা মোটেও বাড়িয়ে বলা নয়। কন্ডিশন বা প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, যেকোনো মাঠে নামার আগে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশের।