মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে ভারতের কেরালায় আনার ব্যর্থ এক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এবার বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলডিএফ সরকারের আমলে বহুল আলোচিত সেই প্রস্তাবিত সফর আয়োজনের নেপথ্যে ছিল গুরুতর অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এমনটাই উঠে এসেছে কেরালা সরকারের বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক সম্মতিই যেখানে ছিল না, সেখানে কীভাবে এত বড় আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল?
কেরালা ক্রীড়া দপ্তরের বিশেষ সচিব এন. প্রশান্তের জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আবদুরহমান এবং মুখ্যসচিব এ. জয়তিলক আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা না পেয়েই অনুষ্ঠান ঘোষণা করেছিলেন এবং আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একতরফাভাবে নির্বাচিত স্পনসর রিপোর্টার ব্রডকাস্টিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড মেসিদের ফুটবল সংস্থাকে ১২৬ কোটি রুপি পরিশোধ করেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে ওই অর্থ হস্তান্তরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পিনারাই বিজয়নের মেয়াদে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া প্রশান্তকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি পুনর্বহাল করা হয়।
প্রশান্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুরহমানের দপ্তর থেকে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এর জবাবে কোনো নিশ্চিতকরণ জবাব পাওয়া যায়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রশাসনিক তদারকির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আর্জেন্টিনা দলের প্রস্তাবিত প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন নিয়ে পিনারাই বিজয়ন ও মুখ্যসচিব জয়তিলকের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল।
তবে প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবিধানিক নথিপত্র ও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে তৈরি হওয়া মৌলিক ত্রুটি ও প্রক্রিয়াগত অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার মতো আইনগত ক্ষমতা ওই বৈঠকগুলোর ছিল না।
এ ঘটনায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী আবদুরহমানের দপ্তরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের জোরালো অবস্থানের কারণে ক্রীড়া দপ্তরকে কার্যত বাধ্য হয়ে কাজ করতে হয়েছিল।
এসএন/পিডিকে