বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানের নতুন শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বাড়ছে।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে অক্টোবর ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৪৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দামটি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। খবর আল জাজিরার। 

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়া এবং সম্ভাব্য সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের দামে ঝুঁকির প্রিমিয়াম ধরে রাখছে। তার মতে, প্রতিদিন কোনো সমাধান ছাড়া পার হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার (৯ আগস্ট) জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় খুলবে না তেহরান।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন মাত্র ৮ থেকে ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত।

ইরান বারবার হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছে এবং অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সংযুক্ত আরব আমিরাতও তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। দেশটির দাবি, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন একটি জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে কেন্দ্র করে অন্তত ৬৪টি সহিংস ঘটনা এবং ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগের জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।

তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিলেও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো সোমবার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ও হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০ দশমিক ৭ শতাংশ করে বেড়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো চুক্তি হলেও সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে বাজারে সংশয় রয়েছে।

টিম ওয়াটারারের ভাষায়, কূটনৈতিক সমঝোতা হলেও আগের অভিজ্ঞতার কারণে সেটি ভঙ্গুর হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। ফলে হরমুজ খুলে গেলেও তেলের দাম দ্রুত অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *