ব্যাটিংয়ে অম্ল-মধুর কেটেছে বাংলাদেশ এইচপি দলের। ভালো শুরুর পর ছোটখাটো ধসও দেখে তারা। তবে দলের বিপদে কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক এসএম মেহরব আর আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন। তাদের ব্যাটে ভর করে মালয়েশিয়ার সামনে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের বোলার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি মালয়েশিয়ার ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেছে ১০০ রানের আগেই।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল মালয়েশিয়া আর বাংলাদেশ এইচপি দল। ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১৫৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৬ ওভারে ৬৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৮৯ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের বোলারদের কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি সফরকারী ব্যাটাররা। শুরু থেকেই স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মালয়েশিয়া। পুরো ইনিংসে মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন। বাকিরা ছিলেন যাওয়া-আসার মিছিলে।
রান তাড়ায় নেমে প্রথম বল থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই সফরকারী শিবিরে আঘাত হানেন আবু হায়দার রনি। বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে পারেননি ওপেনার নাজমুস সাকিব। বল গিয়ে আঘাত হানে স্ট্যাম্পে।
সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় ওভারেই আরও এক উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। মিস্ট্রি-স্পিনার রুবেল হোসেনের বল বুঝতেই পারেননি আসলাম খান। ৫ বল খেলে কোনো রান না করেই বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মালয়েশিয়ার দুই ব্যাটার আকিল ওয়াহিদ আর শারভিন মুনিয়ান্দি। সেটি অবশ্য পূর্ণতা পায়নি। ২২ রানের জুটি গড়তেই আবারও আঘাত হানে বাংলাদেশ। এবার রাকিবুল হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুনিয়ান্দি। ৯ বল খেলে ৩ রান করেন তিনি।
এরপর ভুল বোঝাবুঝিতে ননস্ট্রাইক থেকেই রানআউট হয়ে ফেরেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ। ৩ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
এতো সময় একপ্রান্ত আগলে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আকিলও যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন নবম ওভারে এসে। এসএম মেহরবের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ফেরেন ক্যাচ দিয়ে। এর আগে ২৫ বলে ২৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
পরে আর কেউ সেভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি। আমির আজিম কিছুটা চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। তাকে ফিরিয়ে মালয়েশিয়ার শেষ প্রচেষ্টা রুখে দেন রুবেল। ২২ বলে ১৫ রান করেন আমির। মালয়েশিয়া হুটিয়ে যায় ১৬ ওভারেই।
বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন রুবেল হোসেন আর রাকিবুল হাসান। একটি করে উইকেট পান আবু হায়দার রনি, সাকলাইন, মেহরব আর মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন জিসান। শুরু সেই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন জাওয়াদ আর আরিফুল। দুজন মিলে গড়েন ৩৬ রানের জুটি। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে ১২ বলে ১৫ রান করে আরিফুল ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি আগ্রাসী ব্যাটিং করা জাওয়াদ। ১৫৬ স্ট্রাইকরেটে ১৮ বলে ২৮ রান করে অষ্টম ওভারের প্রথম বলে আউট হন তিনি। পাঁচ নম্বরে নামা প্রিতম কুমারও (৪) ফিরে যান দ্রুতই। তিন নম্বরে নামা অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান শুরুটা করেছিলেন ভালোই। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১২ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন তিনি।
৭৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের হাল ধরেন জাওয়াদ আর সাকলাইন। দুজন মিলে গড়েন ৫২ রানের জুটি। এই জুটিতে শতক ছাড়ায় বাংলাদেশ। ২৬ বলে ৩২ রান করা সাকলাইন ফিরলে ভাঙে অর্ধশত রানের এই জুটি।
শেষদিকে বাকিরা সেভাবে আলো ছড়াতে পারেনি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তুলে যান মেহরব। ২২ বলে ৪০ রান করে থামেন তিনি। বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৮ রান।