আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন। ৮ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন এবং এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম আগামী দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত জানিয়েছেন, এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চিত্রনায়ক উজ্জ্বল (আশরাফ উদ্দিন আহমেদ) সংবিধানের ১০২(২) অনুচ্ছেদের অধীনে একটি রিট আবেদন করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচন স্থগিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। সেই নিষ্ক্রিয়তাকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং দুই মাসের জন্য নির্বাচন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিবাদীপক্ষকে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমিতির সদস্য তানবীর হাসান বলেন, অভিনেতা উজ্জ্বলের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত হয়েছে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রযোজক দাবি করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ইতোমধ্যে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচন করায় এবার তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতায় আটকে আছে প্রযোজক-পরিবেশকদের এই শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে বিরোধের কারণে একাধিকবার তফসিল ঘোষণা হলেও ভোটগ্রহণ আর সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালের ২১ মে ভোটের দিনও হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। পরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং একজন প্রযোজকের জন্য একটি ভোটের নীতি চালু করে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ১১ জুলাই, পরে ৮ আগস্ট ভোটের দিন নির্ধারণ করা হলেও সর্বশেষ আদালতের আদেশে নির্বাচন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।