শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যায় আরও একজন আটক

খুলনার ডাকবাংলো মোড়ে একটি শোরুমের ভেতরে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে মাসুম বিল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় সন্ত্রাসীদের তিনটি গ্রুপ। পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার সময় ঘটনাস্থল থেকে আটক অশোক ঘোষকে নিয়ে নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল ২২ তলা ভবনের পাশ থেকে মো. জাবেদ গাজী নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অশোক ঘোষকে আসামি করে অস্ত্র আইনে থানায় মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন–খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারি হেলাল, কেসিসি প্রশাসক ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু ও বিএনপি নেতা মোল্লা খায়রুল ইসলাম।

কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, হত্যার পরিকল্পনা করা হয় অনেক আগে থেকে। বিভিন্ন সময় হত্যাকারীরা সুযোগ খুঁজতে থাকে।

মাসুম হত্যা মিশনে সন্ত্রাসীদের তিনটি গ্রুপ কাজ করেছে। তাদের মধ্যে একটি গ্রুপ মাসুমের গতিবিধি খুনিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করে আরেকটি গ্রুপ। অন্য গ্রুপটি হত্যা মিশন সফল করে।

মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, হত্যা মিশনে ৮ জন সদস্য ছিল। তারা সকলে গল্লামারি থেকে ময়লাপোতা মোড়ে মিলিত হয়। সেখান থেকে অস্ত্র নিয়ে তারা ডাকবাংলো মোড়ে আসে। সন্ধ্যার পর মাসুমসহ পরিবারের সদস্যরা কেনাকাটার জন্য মার্কেটে আসেন। এ তথ্য দেওয়ার পর হত্যাকারীরা মাসুমকে প্রথমে ধাওয়া দেয়। তাদের ধাওয়া খেয়ে মাসুম নিরাপত্তার জন্য ডাকবাংলো মোড় বাটার শো-রুমে প্রবেশ করে। পিছু নিয়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত করতে থাকে। পরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুজন সন্ত্রাসী।

এর আগে হত্যা মিশন সম্পন্ন করার জন্য অশোক ঘোষকে ৫০ হাজার টাকার দেওয়া হয়। মিশন শেষ করার পর তারা যে যার মতো করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যায়।

মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সকল সদস্যদের নাম জানতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছ। আরও কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যার মূল মোটিভ জানা যাবে।

অশোককে নিয়ে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। রাতে সোনাডাঙ্গা থেকে জাবেদ গাজীকে আটক করা হয়। সে ব্যাক আপ অংশের সদস্য ছিল। নিহতের পরিবার মামলা করলে তাকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অশোক সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপের সদস্য। নিজেদের অস্ত্র আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *