ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি-নেতানিয়াহুর বৈঠক, ইউক্রেন-ইরান যুদ্ধ ঘিরে তৎপরতা

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউস বৈঠক দুটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে যান দুই নেতা। গ্রাহাম ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক এবং ইউক্রেনকে মার্কিন সামরিক সহায়তার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি মারা যান। খবর বিবিসির। 

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দেশীয় উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর জেলেনস্কি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, তিনি আমাদের লাইসেন্স দিতে সম্মত হয়েছেন। এরপর আমি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছি। আমি আশা করছি, আমরা যৌথভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারব।

যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

বৈঠকের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে!

ওয়াশিংটন সফরে জেলেনস্কি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে মার্কিন সিনেট বিপুল সমর্থনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দেয়।

জেলেনস্কি বলেন, এটি ইউরোপের জন্য বড় বার্তা, ইউক্রেনের জন্য বড় বার্তা এবং আমাদের জনগণের প্রতি শক্তিশালী সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

বর্তমানে ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের অন্তত ২৫টি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনা

জেলেনস্কির বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউসে পৌঁছান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনায় ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রধান বিষয় ছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও লেবানন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে উঠেছিল। ট্রাম্প একাধিকবার লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতি উপেক্ষার সমালোচনা করেছেন।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, এটি খুবই ভালো একটি বৈঠক ছিল।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এই অভিন্ন লক্ষ্যসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটি আমার অন্যতম সেরা বৈঠক।

এদিকে বৈঠকের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি বাহিনী আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগে পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *