শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে বাজারে কারসাজি করেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
নথি থেকে আরও জানা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর করে অর্থের উৎস গোপন করেন। এছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এজাহারে বলা হয়, আবুল খায়ের হিরু যেসব কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ, সেগুলোর মধ্যে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের মাধ্যমে বাজার কারসাজিতে সহায়তা করে সাকিব ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে আত্মসাৎ করেন বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।