সৌদি আরবের সঙ্গে বহুল আলোচিত সিভিল পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, রিয়াদ যদি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম আকর্ডসে’ সই না করে, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রস্তাবিত এই পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে না। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-প্রযুক্তি নির্ভর এই বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি কেবল সামরিক-বহির্ভূত ব্যবহারের জন্যই অনুমোদিত হবে। এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে সৌদি আরবের আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলাইন লিভিট বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সৌদি আরব যদি এই আঞ্চলিক শান্তি চুক্তিতে অংশ না নেয়, তবে পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর আগে গত বুধবার (২২ জুলাই) দুই দেশের তরফ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং মার্কিন প্রযুক্তিতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ট্রাম্পের শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলো। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট পথনকশা ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে সৌদি আরব। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনস্থ সৌদি দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই শর্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। রিয়াদ-ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা উসকে দিতে পারে বলে ইসরায়েলের যে আশঙ্কা ছিল, তা এই ঘোষণার পর কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। ’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আব্রাহাম আকর্ডসে সৌদি আরবের যোগদান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে যা ‘আব্রাহাম আকর্ডস’ নামে পরিচিত। এখন সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করাই ওয়াশিংটনের মূল কূটনৈতিক লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।