জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি নিরাপত্তা ইস্যুতে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রাইমটাইমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ভাষণে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তার দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো আবারও সামনে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বিবেচনা করছে ট্রাম্পের ভাষণে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ-সংক্রান্ত কিছু গোপন গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হবে কি না। তবে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এসব তথ্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। খবর রয়টার্সের। 

২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল। যদিও একাধিক আদালতের রায়, পুনর্গণনা এবং তদন্তে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্যেও চীন ভোটের ফল পরিবর্তন করেছে বা ভোটে কারচুপি করেছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ট্রাম্প ভাষণে কী বলবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন চলছে। তবে এখনও প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্য চূড়ান্ত করেননি।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি রিপাবলিকানদের সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসেরও চাপ দিচ্ছেন। প্রস্তাবিত আইনে ভোট দিতে ফটো আইডি এবং ভোটার নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার সীমিত করতে পারে।

এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতাও ট্রাম্পকে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে না পড়ে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে জিততে না পারলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি আসন অতিরিক্ত জিতলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হবে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তাদের জন্য আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *