এপস্টেইন ফাইলস : নিউ মেক্সিকোর তোপের মুখে মার্কিন বিচার বিভাগ

দণ্ডিত প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত সম্পূর্ণ অসম্পাদিত নথি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যকে দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিভাগটি জানায়, এ ধরনের গোপন নথি প্রকাশ করলে তা বিদ্যমান ফেডারেল আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হবে। খবর আলজাজিরার। 

বিচার বিভাগ তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ফেডারেল আইন, আদালতের নির্দেশ এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের গোপনীয়তা সুরক্ষার বিধান আমাদের লাখ লাখ অসম্পাদিত নথি প্রকাশের অনুমতি দেয় না। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের দপ্তরের ক্রমাগত চাপের মুখেই মার্কিন বিচার বিভাগ এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক চিঠিতে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস অভিযোগ করেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তার অঙ্গরাজ্যের তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। 

মার্কিন বিচার বিভাগ এই অভিযোগ পাল্টা নাকচ করে দিয়ে জানায়, তোরেসের এই অনুরোধ তাদের আইনি ক্ষমতার আওতার বাইরে। বিভাগটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলে, আমরা ফেডারেল আইন এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনা মেনেই চলব। তাদের দাবি মেনে নেওয়া মানে হবে ফেডারেল আইন ভঙ্গ করা। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল কি সেটাই বোঝাতে চাইছেন?

২০২৫ সালে রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এপস্টেইন-সংক্রান্ত এই বিতর্ক তার প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নথিতে নাম থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতেই তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও একসময় এপস্টেইনের সামাজিক পরিমণ্ডলের অংশ ছিলেন, যদিও তিনি বরাবরই এপস্টেইনের অপরাধের বিষয়ে কোনো কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছেন। 

জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে শত শত নারী ও কিশোরীকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় ফেডারেল প্রসিকিউটররা নিউ মেক্সিকোকে তাদের স্থানীয় তদন্ত স্থগিত রাখতে বলেছিলেন, যেন ফেডারেল মামলাটি বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে একই বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়, যাকে কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের’ আওতায় লাখ লাক নথি প্রকাশ করলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউ মেক্সিকো তাদের তদন্ত পুনরায় শুরু করে। তোরেস জানান, প্রয়োজনীয় অসম্পাদিত নথি পাওয়ার জন্য তার দপ্তর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা করলেও সব নথি পায়নি।

এপস্টেইন এপস্টেইন ফাইল যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *