মেসির সামনে ইংল্যান্ডের দেয়াল, কেইনের সামনে ইতিহাস

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আর সেই মঞ্চে যখন মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন ইতিহাসও যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আটলান্টায় আজ রাতে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে নামছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। তবে এবারের লড়াইয়ে ইতিহাসের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়-আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামছেন লিওনেল মেসি। একইভাবে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও এটিই হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের প্রথম ম্যাচ!

দুই দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে উত্তেজনার কমতি নেই। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আর পরের দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনার ২-১ ব্যবধানের জয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। সেই স্মৃতি এখনও দুই দেশের ফুটবল লড়াইকে অন্য মাত্রা দেয়।

তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে কিছুটা প্রতিশোধ নিয়েছিল ইংল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় শেষ হওয়া সেই ম্যাচ যেমন নাটকীয়তার জন্য স্মরণীয়, তেমনি ডেভিড বেকহামের লাল কার্ডও জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। সেটিই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ জয়।

এবারের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় শিরোপার পথে আরেকটি ধাপ পেরোতে চায়। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড।

এই মহারণে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেন সময়কে হার মানিয়ে চলেছেন। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে করেছেন আট গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয়েছিল তার গোলেই। মাঠের ছোট ছোট জায়গা কাজে লাগানো, রক্ষণ ভেঙে সুযোগ তৈরি করা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ফুটবলারদের একজন করে রেখেছে।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই স্ট্রাইকার শুধু গোল করাতেই নন, সতীর্থদের দিয়ে সুযোগ তৈরি করাতেও সমান দক্ষ। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন তিনি।

মাঝমাঠের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বড় অস্ত্র জুড বেলিংহাম। ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করা এই তরুণ মিডফিল্ডার আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই ভূমিকাতেই সমান কার্যকর। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে ইংল্যান্ডের ম্যাচের ছন্দ।

আর্জেন্টিনার আক্রমণে নজর থাকবে হুলিয়ান আলভারেজের দিকেও। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি গোল করলেও সেটিই ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নির্ধারণী গোল। তার গতি, হাই-প্রেসিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে অবিরাম চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্য ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে ডেক্লান রাইসের দায়িত্ব হবে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ছন্দ ভেঙে দেওয়া। গোলের পরিসংখ্যান খুব সমৃদ্ধ না হলেও রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়া, নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং বিশেষ করে মেসির প্রভাব কমিয়ে রাখার দায়িত্বটাই ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা!

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *