ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনার অবশ্যই প্রতিশোধ নেওয়া হবে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, এই প্রতিশোধ নেওয়াটা অনিবার্য। আলী খামেনির দাফনের পর এটিই তার প্রথম প্রকাশিত বিবৃতি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
শুক্রবার সই করা একটি চিঠিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির আকাঙ্ক্ষা এবং এটি অবশ্যই অনিবার্যভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব বা অন্য কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। আমরা থাকি আর না থাকি, এই প্রতিশোধ কার্যকর হবেই।’
মোজতবা খামেনির এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর আগে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করার কোনো চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর একযোগে ‘হাজার হাজার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই কড়া হুমকি দেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, যদি ইরান সরকার বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট—অর্থাৎ আমাকে হত্যা করার বা হত্যার চেষ্টা করার হুমকি কার্যকর করে, তবে ১০০০টি মিসাইল ইতোমধ্যেই ‘লক অ্যান্ড লোডেড’ (লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে প্রস্তুত) অবস্থায় ইরানের দিকে তাক করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রথম দফার এই আক্রমণের পর আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে ইরানে আঘাত হানবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় সব সামরিক আদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই জারি করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী এক বছর মেয়াদের জন্য (যা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হতে পারে) ইরানের ভূখণ্ড পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন এবং ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।
মোজতবা খামেনি ইরান যুদ্ধ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রতিশোধ
sn/sks