সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বল ঘিরে কৌতূহল ও আতঙ্ক

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া ছয়টি ধাতব গোলক সম্ভবত মহাকাশের আবর্জনা বলে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে। ছবি : কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের ‘ফরেস্ট বিচে’ হঠাৎ ভেসে আসা ছয়টি বিশাল ও রহস্যময় ধাতব গোলক নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে সৈকতে এসে থিতু হওয়া এই রহস্যময় বস্তুগুলোকে স্থানীয়রা ‘স্পেস বল’ বা মহাকাশের বল নামে ডাকছেন। সাধারণ বাস্কেটবলের চেয়ে আকারে প্রায় দ্বিগুণ বড় এই ভারী গোলকগুলোর উৎস এবং ভেতরে কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। খবর সিএনএনের। 

রহস্যময় বস্তুগুলো দেখার পর থেকেই সৈকতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে, যার ফলে জনমনে তৈরি হয় এক ধরণের অজানা আতঙ্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছে, এই গোলকগুলো আসলে মহাকাশের বর্জ্য বা ‘স্পেস ডেব্রি’। 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এগুলো কোনো রকেটের প্রেশার ভেসেল বা উচ্চ-চাপের ভারী গ্যাস ও তরলের পাত্র ছিল। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে রকেটের পুনঃপ্রবেশের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে পতিত হয়েছিল।

প্রথমে গোলকগুলোর কাছে যেতে এবং সেগুলো স্পর্শ করতে সাধারণ মানুষকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে কুইন্সল্যান্ডের জরুরি উদ্ধারকারী দল বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ ঘোষণা করে এবং সৈকত থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

সংস্থাটির মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও এমন বর্জ্য ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে তা স্পর্শ না করে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করছে। যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় এই স্পেস বলগুলো ঠিক কোন দেশের রকেটের অংশ ছিল।

সমুদ্র মহাকাশ রকেট অস্ট্রেলিয়া

sn/sks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *