একসময় দেশের যেকোনো উৎসব মানেই ছিল শাড়ির সঙ্গে মানানসই মাটির গয়না। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখে মাটির তৈরি দাদুর মালা গলায় দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল অনেকের জন্যই এক বিশেষ আবেগ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাশ্চাত্য ফ্যাশনের প্রভাব ও আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এক পর্যায়ে মাটির গয়নার ব্যবহার কিছুটা কমে যায়।
তবে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মাটির সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। ফলে নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আবারও ফিরে এসেছে মাটির গয়না—নতুন নকশা, রঙ এবং আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে এক ভিন্ন রূপে।
বর্তমানে মাটির গয়না শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং সমসাময়িক ফ্যাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মালা, লকেট, কানের দুল, আংটি থেকে শুরু করে খোঁপার কাঁটা পর্যন্ত নানা ধরনের গয়না তৈরি হচ্ছে মাটি দিয়ে। এসব গয়নাকে আরও আকর্ষণীয় করতে এখন যুক্ত হচ্ছে কাঠ, পিতল, তামার তার ও রুদ্রাক্ষের মতো উপকরণ, যা গয়নাকে দিচ্ছে ভিন্নমাত্রার নান্দনিকতা।
আগে যেখানে মাটির গয়না মূলত মেটে বা প্রাকৃতিক রঙের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেখানে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সবুজ, কালো, মেরুন, সাদা এবং নানা উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার গয়নাকে করেছে আরও আধুনিক ও স্টাইলিশ। ফলে এগুলো এখন শুধু ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গেই নয়, বরং ফিউশন ও ক্যাজুয়াল ফ্যাশনের সঙ্গেও সহজেই মানিয়ে যাচ্ছে।
মাটির গয়না তৈরির প্রক্রিয়াও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও ধৈর্যনির্ভর। মাটি সংগ্রহ, পরিষ্কার, নকশা তৈরি, শুকানো, রঙ করা এবং পোড়ানো—এই পুরো ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক দিন থেকে শুরু করে ভারী ডিজাইনের ক্ষেত্রে ১০–১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। প্রতিটি গয়নাই হাতে তৈরি হওয়ায় এতে থাকে আলাদা কারিগরি দক্ষতা ও নান্দনিকতার ছোঁয়া।
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কাস্টমাইজড ও ইউনিক ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে। অনেকেই পোশাকের ধরন অনুযায়ী বিশেষভাবে তৈরি মাটির গয়না বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে সুতি শাড়ি, ফতুয়া কিংবা আধুনিক টপসের সঙ্গে এসব গয়না বেশ মানানসই হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মাটির গয়না এখন আর শুধু উৎসবের অনুষঙ্গ নয়। এটি ঐতিহ্য, শিল্প এবং আধুনিক ফ্যাশনের এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা ধীরে ধীরে আবারও জায়গা করে নিচ্ছে সমসাময়িক জীবনধারায়।
এসএন/পিডিকে