সব দল ট্রফি জেতার জন্য বিশ্বকাপে আসে! কিন্তু খুব কম দলই বিদায়ের পরও কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই বিরল কীর্তিটাই গড়েছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার কাছে শেষ পর্যন্ত ২-৩ গোলে হেরে বিদায় নিলেও, এই ছোট্ট আফ্রিকান দেশটি রেখে গেল সাহস, স্বপ্ন আর অসম্ভবকে সম্ভব করার এক অনন্য গল্প।
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বর দল হিসেবে। অনেকেই ভেবেছিলেন, তারা হয়তো গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারবে না। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় তারা।
এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল করে ড্র আদায় করে নেয়। সৌদি আরবের বিপক্ষেও পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি।
শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাগজে-কলমে এটি ছিল এক অসম লড়াই। কিন্তু মাঠে সেই পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। লিওনেল মেসির গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়েও আবার পিছিয়ে পড়ে, কিন্তু সিডনি লোপেস কাবরালের অসাধারণ এক গোল ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।
স্কোরলাইন বলছে কেপ ভার্দে হেরেছে। কিন্তু ফুটবল বলছে, তারা জয় করেছে কোটি মানুষের মন।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা গর্ব নিয়েই বলেন, ‘আমরা ছোট একটি দেশ হতে পারি, কিন্তু বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের আছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুইবার সমতায় ফেরা আমাদের দেশের জন্য ইতিহাস।’
ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেসের কথায় ছিল আরও গভীর আবেগ। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করে না-কেপ ভার্দে মানচিত্রের কোথায়। আমরা নিজেদের পৃথিবীর মানচিত্রে তুলে ধরতে পেরেছি।’
বিশ্বকাপজুড়ে আরেক নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসা এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও আটটি সেভ করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার মোট ১৮টি সেভ ছিল, যা এই পর্যায় পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের কাছেও কেপ ভার্দের প্রশংসা ছিল অকুণ্ঠ। ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল এটিকে আন্ডারডগ দলের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স বলে উল্লেখ করেন। আর ইয়ান রাইট বলেন, এমন গল্পই প্রমাণ করে সুযোগ পেলে ছোট দেশও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে!
এসএন/পিডিকে