ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়পুরের ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী মহিমা রাজপুত আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা ও শিক্ষা প্রোগ্রাম ‘শাক্তিস্যাটের’ জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্বের মোট ১০৮টি দেশের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার অনন্য সুযোগ পেয়েছে দশম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গাইড শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানার পর মহিমা এতে অংশ নিতে নিবন্ধন করে। এরপর কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তালিকায় স্থান করে নেয়। খবর এনডিটিভির।
এই বিশেষ আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচিতে মোট ২১টি মডিউল ও ৩৬৫টি পাঠ রয়েছে। যা স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সহজ ও কাঠামোগত উপায়ে মহাকাশ বিজ্ঞান, স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ এবং বিভিন্ন জটিল মহাকাশ অভিযানের মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচিত করাবে। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয়, বরং এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের স্যাটেলাইট ডিজাইন বা নকশা এবং এটি নির্মাণের বাস্তব ও ব্যবহারিক কলাকৌশলও শেখানো হবে। মহাকাশ প্রযুক্তির এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সরাসরি অর্জনের লক্ষ্যে আগামী ২৩ আগস্ট মাহিমাসহ নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের দেশের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তারা সশরীরে হাতে-কলমে স্যাটেলাইট তৈরির মূল কার্যক্রমে অংশ নেবে।
এই আন্তর্জাতিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের তৈরি করা স্যাটেলাইটগুলো আগামী অক্টোবর মাসে মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা। মিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে নির্মিত একটি স্যাটেলাইটকে চাঁদের বুকে সফলভাবে অবতরণ করানো হবে এবং অন্য আরেকটি স্যাটেলাইট চাঁদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে থেকে সেটিকে প্রদক্ষিণ করবে। মূলত স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত মেলবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ১৪ বছর বয়সেই নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে মহিমা।