খামেনি নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানে বিক্ষোভ, সহিংসতায় নিহত ২০

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ১ মার্চ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন শিয়া মুসলিমরা দাঙ্গা পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১ মার্চ) দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে করাচিতে। সেখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের স্কার্দুতে অন্তত আটজন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোন এলাকায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ এলাকায় সংসদ ভবন, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত। বিক্ষোভকারীরা ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যারা, তারা বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চাই’ বলে স্লোগান দেন।

প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার মানুষ একটি বড় হোটেলের সামনে জড়ো হয়ে খামেনির ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেক নারী ও শিশুও বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দও শোনা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

সবচেয়ে সহিংস পরিস্থিতি দেখা যায় পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে। সেখানে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে কিছু বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের গেট টপকে ভেতরে ঢুকে ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ও প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দিলে সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। সেখানে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া লাহোর, পেশোয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুতে পাকিস্তানের মানুষ যেমন শোকাহত, তেমনি ইরানের জনগণও শোকাহত। তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা গুরুতর উদ্বেগজনক।

পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ইরানের সঙ্গে তাদের ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *